স্কুলে আমাদের বাংলা পড়াতেন সিরাজ কাকু। স্কুলে স্যারই বলতাম। তখন সম্ভবত সেভেনে পড়ি। সিরাজ কাকু আব্বার সাথে কথা বলছেন কোনো এক সন্ধ্যায়। এস এস সি পরীক্ষায় শ্রীপুর সেন্টারে কতো জন যেনো নকল করার জন্য এক্সপেলড হয়েছে। আমার মনে আছে, আমি জিজ্ঞেস করেছিলামঃ"কাকু, নকল কী?" সিরাজ কাকু হেসে জবাব দিয়েছিলেনঃ "বাবা, এটা এখন না জানলেও চলবে।"
পরে অবশ্য নকলের মানে জেনেছি। আমাদের সময়েও কেউ কেউ নকল করতো পরীক্ষায়। বিভিন্ন এবং নূতন নূতন হাস্যকর কায়দায়। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা কখনো শুনিনি। একটা কথা পরিস্কার- নকল করে ছাত্ররা আর প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত থাকে বড়রা। শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীগণ।
গত কয়েক বছর ধরে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা যেনো অপরিহার্য অনুসঙ্গে পরিণত হয়েছে। কী পাবলিক পরীক্ষা, কী চাকুরির ইন্টারভিউ, কী এডমিশন টেস্ট- সর্বত্র। আমাকে সবচেয়ে ব্যথিত করে, কোমলমতি ছেলেমেয়েদের পরীক্ষায়ও এই প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে। যাদের পর্যায়ে কোনো পরীক্ষা থাকাই বাঞ্চিত নয়; সেই পিএসসি - জেএসসি পরীক্ষায়েও প্রশ্নফাঁস।
প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে আর বরাবরই তা অস্বীকার করা হচ্ছে। পরের আরো বেশিই হচ্ছে। আর যেসকল অভিভাবক নিজের সন্তানের হাতে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন তোলে দিচ্ছেন বা সহযোগিতা/ সমর্থন করছেন- তাঁদেরকে ঘৃণা জানানোর ভাষা জানা নেই।
মাঝেমধ্যে মনে হয়- পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ওপর নিশ্চয়ই ভয়ঙ্কর ভূতের আছড় হয়েছে। নইলে প্রশ্নফাঁস ঠেকানো যাচ্ছে না কেনো? জানতাম, ভূত মানুষের ঘাড় ভেঙে দেয়। এবার কি ভূত জাতির মেরুদণ্ড ভাঙার পাঁয়তারা করছে?
প্রশ্নফাঁস জাতির মূলত তিনটি বিষয়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলছেঃ
- জাতির মেধা পঙ্গুত্ব বরণ করছে
- প্রজন্মের চারিত্রিক দৃঢ়তা নষ্ট হচ্ছে
- মুল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে।
প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার কয়েকটি টুকরো লেখা তুলে ধরছিঃ
(১)
প্রশ্ন শুধু ফাঁস হয়ে যায়
দাস হয়ে যায় পড়া,
সনদ জোটে বড়ো বড়ো
জ্ঞানই কেবল ধরা।
(২)
প্রশ্নফাঁস-এর কোনো প্রশ্নই উঠে না
এ সংক্রান্ত অভিযোগ সত্য মোটে না
শুধু সেলফোন কিবা নেটে
প্রশ্ন বেড়ায় হেটে.....
শিক্ষার সত্যি মানটাই শুধু ভাগ্যে জোটে না।
(৩)
এ সংক্রান্ত অভিযোগ সত্য মোটে না
শুধু সেলফোন কিবা নেটে
প্রশ্ন বেড়ায় হেটে.....
শিক্ষার সত্যি মানটাই শুধু ভাগ্যে জোটে না।
(৩)
পূর্বরাতে এসএমএস ফেসবুকে প্রশ্ন মেলে যথাতথা!
এ ক্যামন তরো ফাঁস !!
জাতির আগাম সর্বনাশ।
জিপিএ রেকর্ড লক্ষ্য শুধু(!), নেই আর কোনো মাথাব্যথা!
আসুন এগিয়ে। বন্ধ করুন এই প্রবণতা। রক্ষা করুন জাতিতে করুণ পরিণতি থেকে।
~
সোহেল আহমেদ পরান
নভেম্বর ১১, ২০১৭

No comments:
Post a Comment