নীলিমা,
কেমন আছিস? জানি এই চিঠি তোর কাছে পৌঁছুবে না কোনোদিন। তোর ঠিকানাটাই এমন- কোনো চিঠি যায় না ওখানে। তবে কী জানিস? আমার মন বলছে তোর সাথে আমার দেখা হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি। তখন কিন্তু আমরা অনেক কথা বলবো। অনেক গল্প। দুই বছর হয়ে গেলো তোকে দেখি না।
হাসপাতালের এই ছোট্ট ক্যাবিনে অনেকদিন হয়ে গেলো জানিস নীলিমা? সাদা চাদরে ঢাকা আমার বিছানা। পাশে ছোট একটা টেবিল। তিনটি চেয়ার। দেয়াল ও ছাদের রঙটাও সাদা। একটা সিলিং ফ্যান ঝুলছে। খুব একটা চালানো হয় না তা। একটা পুরনো এসি লাগানো উত্তর দেয়ালে। কিছুক্ষণ পরপর গড়গড় করে চালু হয়ে যায় । প্রথম প্রথম শব্দটা খারাপ লাগলেও এখন তা পরিচিত ও আপন বলে মনে হয় আমার। এটা কি মায়া? পাশাপাশি থাকতে থাকতে জড়িয়ে ধরা মায়া।
তোর যখন মরণব্যাধি লিম্ফোমা ধরা পড়ে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছিলো। কিছুই করার ছিলো না কারো। দুসপ্তার মাথায় তুই চলে গেলি। কীভাবে গেলি নীলিমা? একবারও কি ভেবেছিলি- তুই চলে গেলে এই পৃথিবীটা আমার কাছে অন্ধকার মনে হবে। আর নিকষ অন্ধকারে মানুষ কদিন বাঁচতে পারে বল? সেই শিশুবেলাটি থেকে আমরা ছিলাম মানিক জোড়। সবাই তাই বলতো। আমরা আসলে তারও বেশি ছিলাম, তাই নারে? দুজনের এক প্রাণ। প্রাণের সই। নীলিমা আর অদৃজা।
সেই নীলিমা। তুই চলে গেলি। আহা। হঠাৎই। আমি কী করে থাকি বলতো? বিধাতা সেটা ভালো বুঝতে পেরেছেন। তুই চলে যাবার পর পাগলপারা আমি একটা সময় থিতু হয়ে আসছিলাম। তখনই শুরু হলো শরীরের যন্ত্রণাটা। খুব সহজেই ধরা পড়লো। ব্ল্যাড ক্যান্সার! প্রথমে মা আমার থেকে সব লুকোতে চেয়েছিলো। কিন্তু একটা সময় আমি জানলাম। জেনে আমি হেসেছিলাম। শব্দ করেই। কেনো জানিস? ঠিক এই জায়টাতেও তোর সাথে আমার মিলে গেলো বলে। আমরা জীবনের বন্ধু ছিলাম। মরণের সই না হলে কি হবে? তুইই বল নীলিমা। নীল আকাশে তোর নিশ্চয়ই একা লাগছে?
সেই থেকে এই ওষুধ, সেই ওষুধ করে অনেকদিন হয়ে গেলো। আমার মাকে তো চিনিস। সে পাগলপ্রায়। হাসপাতালের এই ক্যাবিনেও অনেকদিন হয়ে গেলো।
কাল এ ঘরের বাইরে যাবো আমি। আহা মুক্তি! পায়ের কাছে চেয়ারটায় মা এখনো বসা। চোখে চোখ পড়লেই মা হাসে। মায়ের হাসিটা যেনো কেমন। ঠিক আগের মতো না। এগিয়ে এসে মা আমার মাথায় হাত রাখে। কী যে মধুর লাগে মায়ের হাতের স্পর্শ । আমার ঘুম এসে যায়। কিন্তু না। ঘুমালে আমার চলবে না। এই চিঠিটা শেষ করতেই হবে আজ।
নীলিমা, ঘুমোবো না বললেও কাল ঠিক ঘুমিয়ে গেছিলাম। কীভাবে যে! ভোরে ঘুম ভাঙ্গে আমার। দেখি মা তখনও পায়ের কাছের চেয়ারটাতেই বসা। চোখে চোখ পড়তেই হাসার চেষ্টা করে মা। আমিও। মায়ের জন্য জন্য খুব কষ্ট বোধ হয় আমার। কারণ আমি জানি, আমার এ রোগ যে পর্যায়ে বাসা গেড়েছে তাতে বাঁচার সম্ভাবনা একহাজার ভাগের এক ভাগ। মাসহ সবাই তাই মিরেকেলের অপেক্ষায় আছে। আচ্ছা মিরাকেল বলে কি কিছু আছে? আমিতো জানি, কোনো মিরেকেলই কাজে আসবে না আর। এক বাঁধন যে আমায় ডাকছে।
নীলিমা, অপারেশন থিয়েটার রেডি। একজন নার্স এসে সযতনে ট্রলিতে শুইয়ে দেয় আমাকে। মা এসে সর্বাঙ্গে জড়িয়ে ধরে আমায়। কপালে চুমু খায়। ঠোঁটের হাসি তার ভিজে যায় ক'ফোটা চোখের পানিতে। দরোজায় মাকে আটকে দেয় নার্স। আমার এই মনে মনে তোকে চিঠি লেখাটা চলছেই।
অপারশন থিয়েটার রুমটাকে খুব ঠাণ্ডা ঠেকে আমার কাছে। এপ্রন-গ্লাভস পরা ডাক্তার এগিয়ে আসে কাছে।হঠাৎ আমার মনে হয় রুমের ছাদটা অনেকটা নিচে নেমে এসেছে। কী করে এতো নিচে নেমে এলো ছাদটা? আমি মুহুর্তের জন্য খুব অসহায় ফিল করি। পাশে দেখার চেষ্টা করি। সাদা দেয়াল ছাড়া কিছুই দেখতে পাই না আমি।
কেমন আছিস? জানি এই চিঠি তোর কাছে পৌঁছুবে না কোনোদিন। তোর ঠিকানাটাই এমন- কোনো চিঠি যায় না ওখানে। তবে কী জানিস? আমার মন বলছে তোর সাথে আমার দেখা হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি। তখন কিন্তু আমরা অনেক কথা বলবো। অনেক গল্প। দুই বছর হয়ে গেলো তোকে দেখি না।
হাসপাতালের এই ছোট্ট ক্যাবিনে অনেকদিন হয়ে গেলো জানিস নীলিমা? সাদা চাদরে ঢাকা আমার বিছানা। পাশে ছোট একটা টেবিল। তিনটি চেয়ার। দেয়াল ও ছাদের রঙটাও সাদা। একটা সিলিং ফ্যান ঝুলছে। খুব একটা চালানো হয় না তা। একটা পুরনো এসি লাগানো উত্তর দেয়ালে। কিছুক্ষণ পরপর গড়গড় করে চালু হয়ে যায় । প্রথম প্রথম শব্দটা খারাপ লাগলেও এখন তা পরিচিত ও আপন বলে মনে হয় আমার। এটা কি মায়া? পাশাপাশি থাকতে থাকতে জড়িয়ে ধরা মায়া।
তোর যখন মরণব্যাধি লিম্ফোমা ধরা পড়ে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছিলো। কিছুই করার ছিলো না কারো। দুসপ্তার মাথায় তুই চলে গেলি। কীভাবে গেলি নীলিমা? একবারও কি ভেবেছিলি- তুই চলে গেলে এই পৃথিবীটা আমার কাছে অন্ধকার মনে হবে। আর নিকষ অন্ধকারে মানুষ কদিন বাঁচতে পারে বল? সেই শিশুবেলাটি থেকে আমরা ছিলাম মানিক জোড়। সবাই তাই বলতো। আমরা আসলে তারও বেশি ছিলাম, তাই নারে? দুজনের এক প্রাণ। প্রাণের সই। নীলিমা আর অদৃজা।
সেই নীলিমা। তুই চলে গেলি। আহা। হঠাৎই। আমি কী করে থাকি বলতো? বিধাতা সেটা ভালো বুঝতে পেরেছেন। তুই চলে যাবার পর পাগলপারা আমি একটা সময় থিতু হয়ে আসছিলাম। তখনই শুরু হলো শরীরের যন্ত্রণাটা। খুব সহজেই ধরা পড়লো। ব্ল্যাড ক্যান্সার! প্রথমে মা আমার থেকে সব লুকোতে চেয়েছিলো। কিন্তু একটা সময় আমি জানলাম। জেনে আমি হেসেছিলাম। শব্দ করেই। কেনো জানিস? ঠিক এই জায়টাতেও তোর সাথে আমার মিলে গেলো বলে। আমরা জীবনের বন্ধু ছিলাম। মরণের সই না হলে কি হবে? তুইই বল নীলিমা। নীল আকাশে তোর নিশ্চয়ই একা লাগছে?
সেই থেকে এই ওষুধ, সেই ওষুধ করে অনেকদিন হয়ে গেলো। আমার মাকে তো চিনিস। সে পাগলপ্রায়। হাসপাতালের এই ক্যাবিনেও অনেকদিন হয়ে গেলো।
কাল এ ঘরের বাইরে যাবো আমি। আহা মুক্তি! পায়ের কাছে চেয়ারটায় মা এখনো বসা। চোখে চোখ পড়লেই মা হাসে। মায়ের হাসিটা যেনো কেমন। ঠিক আগের মতো না। এগিয়ে এসে মা আমার মাথায় হাত রাখে। কী যে মধুর লাগে মায়ের হাতের স্পর্শ । আমার ঘুম এসে যায়। কিন্তু না। ঘুমালে আমার চলবে না। এই চিঠিটা শেষ করতেই হবে আজ।
নীলিমা, ঘুমোবো না বললেও কাল ঠিক ঘুমিয়ে গেছিলাম। কীভাবে যে! ভোরে ঘুম ভাঙ্গে আমার। দেখি মা তখনও পায়ের কাছের চেয়ারটাতেই বসা। চোখে চোখ পড়তেই হাসার চেষ্টা করে মা। আমিও। মায়ের জন্য জন্য খুব কষ্ট বোধ হয় আমার। কারণ আমি জানি, আমার এ রোগ যে পর্যায়ে বাসা গেড়েছে তাতে বাঁচার সম্ভাবনা একহাজার ভাগের এক ভাগ। মাসহ সবাই তাই মিরেকেলের অপেক্ষায় আছে। আচ্ছা মিরাকেল বলে কি কিছু আছে? আমিতো জানি, কোনো মিরেকেলই কাজে আসবে না আর। এক বাঁধন যে আমায় ডাকছে।
নীলিমা, অপারেশন থিয়েটার রেডি। একজন নার্স এসে সযতনে ট্রলিতে শুইয়ে দেয় আমাকে। মা এসে সর্বাঙ্গে জড়িয়ে ধরে আমায়। কপালে চুমু খায়। ঠোঁটের হাসি তার ভিজে যায় ক'ফোটা চোখের পানিতে। দরোজায় মাকে আটকে দেয় নার্স। আমার এই মনে মনে তোকে চিঠি লেখাটা চলছেই।
অপারশন থিয়েটার রুমটাকে খুব ঠাণ্ডা ঠেকে আমার কাছে। এপ্রন-গ্লাভস পরা ডাক্তার এগিয়ে আসে কাছে।হঠাৎ আমার মনে হয় রুমের ছাদটা অনেকটা নিচে নেমে এসেছে। কী করে এতো নিচে নেমে এলো ছাদটা? আমি মুহুর্তের জন্য খুব অসহায় ফিল করি। পাশে দেখার চেষ্টা করি। সাদা দেয়াল ছাড়া কিছুই দেখতে পাই না আমি।
No comments:
Post a Comment