কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছেন? ক্লান্ত লাগছে কি খুব? ভাবছেন একটু চা বা একটু কফি হলে মন্দ নয়?
অন্যভাবেও ভাবতে পারেন আপনি। অনুমান করতে পারছেন কি? হ্যাঁ। ঠিক ধরেছেন। ঘুম ।
ন্যাপ। দিনের বেলায় এক পশলা বৃষ্টির মতো অল্পসময়ের নিদ্রা আপনাকে করে তুলতে পারে পুনঃ উদ্যমী। আপনি ফিরে পেতে পারেন আপনার কর্মষ্পৃহা। উৎসাহ। ন্যাপকে আমরা বলছি পাওয়ার ন্যাপ। আর এই পাওয়ার ন্যাপ আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে রিস্টার্ট করে আপনাকে দেবে কাজের অভাবনীয় শক্তি।
এখানে বলে নেয়া ভালো যে, ন্যাপ বলতে কিন্তু দু বা তিন ঘন্টার নাক ডাকা ঘুমকে বলে না। এমনকি এক ঘন্টাও না। একটি পাওয়ার ন্যাপের দৈর্ঘ্য হয়ে পারে ২০ মিনিট থেকে ৫০ মিনিট।
পাওয়ার ন্যাপের ৭ উপকারিতাঃ
(১) প্রডাক্টিভিটি বৃদ্ধিঃ ৩০ মিনিটের একটি ছোট্ট ঘুম আপনার উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দেবে। সচেতনতা বাড়াবে এবং যে কোনো কাজে তড়িৎ শুরুর প্রবনতা বৃদ্ধি করা দেবে।
ন্যাপ মস্তিষ্কের জন্যও অনেক ভালো। নাসার পাইলটদের ২৫ মিনিটের ন্যাপের সুযোগ দেয়া হয় তাঁরা যাতে ভালো পারফর্ম করতে পারে।
অফিস আদালতেও পরিকল্পিত ৩০ মিনিটের ন্যাপ খুব ভালো ফলদায়ক।
(২) শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়ঃ গবেষণায় দেখা গেছে, পাওয়ার ন্যাপ মানুষের শেখার ক্যাপাসিটি ও স্মৃতিশক্তি অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। যেকোনো সৃজনশীল কাজের আগে পাওয়ার ন্যাপ দারুণ কাজ দেয়।
(৩) হার্টের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ Cardiologist Dr. Manolis Kallistrato তাঁর এক গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, দিনের বেলার স্বল্প এ ঘুম বা ন্যাপ মানুষের হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা ইম্প্রোভ করে। যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাঁরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন ন্যাপের মাধ্যমে।
অনুরূপ আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, বিকেল বেলার একটি ন্যাপ রক্তচাপ কমায়।
(৪) সেল ক্ষয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করেঃ গবেষণায় প্রমাণিত, ঘুম বা ন্যাপ লিভার এবং লাংস-এর সেল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে।
(৫) টেস্টোস্টেরন বাড়ায়ঃ নিদ্রাহীনতা টেস্টোস্টেরন ও হরমোনের বৃদ্ধি দমিয়ে রাখে। তাই, ন্যাপের মাধ্যমে এর মাত্রা বাড়ানো যায়।
(৬) স্ট্রেস লেভেল কমায় ও ইমিউন সিস্টেম সচল রাখেঃ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ন্যাপিং শরীরে স্ট্রেস উৎপাদকও কমিয়ে রাখে। শুধু তাই নয়- ন্যাপ ইমিউন সিস্টেমকে বোস্ট আপ করে। রাতের নিদ্রাহীনতার বিপরীতে দিনের অল্প নিদ্রা বা ন্যাপ ইতিবাচক ফল দেয়।
(৭) মুড ভালো করেঃ যারা ন্যাপ নেয়, তাঁরা সকলে ন্যাপিং পছন্দ করে এবং ফ্রেশ ফিল করে। এই 'ফিল গুড বা ভালো অনুভব' মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং মানুষকে কাজে মোটিভেটেড রাখে।

No comments:
Post a Comment