Sunday, April 28, 2019

মাকে লিখা চিঠি


মা,
জানার উপায় নেই, তুমি কেমন আছো!  তবে আমি জানি, তুমি ভালোই থাকবে। তোমার মতো মানুষকে কেউ কষ্টে রাখতে পারবে- তা আমি মানি না।

শুধু তোমাকে ছুঁয়ে দেখার সাধটুকুই আর পূরণ হবার নয়, মা!

ডিসেম্বরের এক শীতের দুপুর ছিলো সেটা।
"Mother serious, come at once."
হ্যাঁ। ঠিক এ কথাটাই লেখা ছিলো টেলিগ্রামের মেসেজে। লাঞ্চ করে বেরিয়ে লেটার র‍্যাকে টেলিগ্রামটি পাই। তখন ঊনিশ-বিশের তরুণ। সদ্য চাকরিতে জয়েন করেছি। পোস্টিং ছিলো চট্টগ্রামে। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে রাতের তূর্ণা নিশীথা ট্রেনে বাড়ি পৌঁছাতে পরদিন সকাল ৯-১০টা ।
ততক্ষণে তুমি নেই। তোমার নিথর দেহটিই ছিলো শুধু। বাড়ি ভরা মানুষ। কিন্তু আমার অন্তর বিরান।

আমার যে ভাইটি আজ আমার থেকে বড়ো- সে তখন শিশু। আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে সে। আমি কাঁদতেও পারি না। বাড়ির সামনে নোলকজবা গাছটির পাশে সবাই মিলে তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে দেয়।

মাগো, যখন তুমি ছিলে, তখন মোবাইল ছিলো না। টেলিফোন  ছিলো দুস্প্রাপ্য। আমাদের মতো গ্রামে টেলিফোনের কথা ভাবা যেতো না। কিন্তু একটা অন্যরকম নেটওয়ার্ক ছিলো তোমার মন ঘিরে। বাইরে থেকে যতবার বাড়ি গেছি- তোমাকে পেয়েছি বাড়ির সামনে- আমার অপেক্ষায়। তুমি বলতে- "আমি জানতাম বাবা, আজ তুই আসবি।" মাগো তুমি সত্যিই জানতে। কোনো সন্দেহ নেই এতে। মায়ের মনের চেয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পৃথিবীতে নেই।  আর সৃষ্টিও সম্ভব নয়।

মা, তোমাকে নিয়ে অনেক স্মৃতিরা প্রায়ই ভিড় করে আমার মনে। ছোট একটা সুটকেইস ছিলো তোমার। ওটাতে তুমি তোমার যৎসামান্য প্রিয় পোশাক তোলে রাখতে। একটা ছোট নোটবুকও ছিলো ওখানে। মাঝেমধ্যে তুমি যখন সেই সুটকেইসটা খুলতে, একটা অদ্ভূত সুন্দর গন্ধ টের পেতাম। সেই স্মৃতি এখনো সতেজ । সেই সুন্দর গন্ধটাও। আর নোটবুকটা নাকি আমাদের দাদা তোমাকে দিয়েছিলো। তুমি বলেছিলে। আচ্ছা, তুমি ডায়েরি লিখতে, মা? 
 
আমাদের গাঁয়ে তুমি ছিলে তখনকার গুণী ও শিক্ষিত নারী। পাড়ার মহিলারা বিকেলে তোমার কাছে আসতো। হাদিস কিতাব থেকে তাদের তুমি পড়ে শোনাতে।

আমার বড় দুবোনের জন্মের পর তুমি সেই সময়ে হয়তো আত্মীয়স্বজনের অনেক কথাই শুনেছো। ছেলে না হবার কারণে। তোমার কাছে শুনেছি, আল্লাহর নিকট অনেক কান্নাকাটি ও দোয়ার পর আমার জন্ম। তাও আমার বড়বোনের জন্মের প্রায় ৮ বছর পর। তাই আমার আমার নাম রেখেছিলে- পরান।

এসব কথা আমি কী করে ভুলি, বলো তুমি, মা?

তোমার চলে যাবার পঞ্চান্ন দিনের মাথায় আমাদের বাড়িতে একজন নতুন মা আসে। তোমার মৃত্যুর দিন আমি কাঁদতে পারিনি। কিন্তু ওইদিন অনেক কেঁদেছিলাম।

সবার অজান্তে মনে মনে এমন চিঠি তোমাকে প্রায়ই লিখে থাকি আমি। কেউ জানে না। আচ্ছা, তুমি কি জানো, মা?

সবই থিতু হয়ে আসে একসময়। পরম সুখবোধ। চরম কষ্ট। দুর্দশা কিংবা ভোগান্তি। ভুলে যাওয়া আর
প্রসংগান্তর-যাপনের এমন বিলাস কেবল বুঝি মানুষেরই আছে।

কিন্তু তবুও তুমি থাকো আমার মনে। জ্বলজ্বলে স্মৃতি হয়ে। 

ভেতরটা  ডুকরে ডুকরে ওঠছে। ভালো থেকো মা।

ইতি,
তোমার পরান
২০১৯০৮২৮

Sunday, February 17, 2019

তোমার কাছে অনেক ঋণ আমার

 
তোমার কাছে অনেক ঋণ আমার
অনেক দায়ের বোঝা
রোজকার বাসভাড়া বাঁচাতে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে
ঘড়ির কাঁটায় টাইমকীপারের খাঁচায় তোমার উপস্থিতি।

বেতন কেটে দেয়ার ভয়
সুপারভাইজারের আযাচিত গালি
সুযোগ-সন্ধানী পুরুষ সহকর্মীর খুবলা-দৃষ্টি
অশ্লীল ছুঁয়ে দেয়া
তোমার শ্রমে,
তোমার ঘামে
তোমার শিল্পকর্মে
সোনা-ফলা সম্মান আজ আমার দেশের।

অথচ বিনিময়ে অচল তামা-ই থাকে তোমার ঘটে পরিশেষে
তোমার কাছে চিরঋণী আমি
হে বাংলার সোনালি পোশাক-শিল্পী।

Monday, December 3, 2018

মিলনমেলা

মা মাটি মানুষের মিলনমেলায়
হবে দেখা বন্ধুরে,
হাতে হাত রাখো পরানে পরান
নেইযে কোনো দ্বন্দ্বরে।


কবিতা হবে, হবে যে গল্প
হাসি খুশি আনন্দ,
ছন্দে দোলে হবে গান ও কৌতুক
হবে আর আর যা নন্দ।


হবে জ্ঞানের কথা, গুণীর কদর
অভিনয়ও থাকবে তায়,
লাল হলুদ নীল রঙের বাহার রবে
কেউবা আসবে নুপুর পায়।

মিলনমেলার মহামিলনকুঞ্জে
ফুটবে থোকা মানব ফুল,
আচ্ছা  সেথায় দেখা হবে তবে
ভুল করো না; কিংবা গোল।




এক মানবজীবন

আচ্ছা তুমি থাকো তোমার কক্ষপথে
আবর্তিত হও নিজস্ব মহাবিশ্বে
আহ্নিকে দিবানিশি।
আমি তোমার কাজলদিঘি চোখ দেখেদেখেই
কাটিয়ে দেবো এক মানবজীবন।

Tuesday, November 20, 2018

সুর

ভাববো না আর তোমায় আমি
ডাকবো না আর তোমায় মেয়ে,
বোঝোনি তো একটিবারও
কোন সুরে যায় এ মন গেয়ে।



Wednesday, August 29, 2018

সময় সম্পাদনা


সময় সম্পাদনায়
আমি কিঞ্চিৎ সেকেলে।
আমায় ছুঁয়ে থাকে-
আদর্শলিপি
ইংলিশ ফর টুডে
এসো নিজে করি
সমস্বর জাতীয় সংগীত
আর শাসন ভালোবাসার হাকিম স্যার।
কিছুতেই ছাড়ে না আমায়-
অবুঝ সবুজে মোড়ানো আমার গাঁ
লাউতি খাল
ক্ষীরু নদী
নোলকজবা সকাল
গন্ধরাজ দুপুর
গজারিবনের মনকাঁটা বিকেল
হাসনোহেনা সোনাসন্ধ্যে
আর নিজস্ব গভীরতায় অকালপক্ক রাত।
আমি ক্রমাগত অপেক্ষা থাকি
সেই হীরককালের
আমি কিছু হাহাহার দেখি শুধু।
সময় সম্পাদনায়
আমি বড্ড সেকেলে
আহা!
~
#অণুঅনুভব
2017

Saturday, August 25, 2018

অভিমান নয়

কেমন আছি জানতে চেও না,
ব্লাড প্রেশারটা কি আজও ফ্ল্যাকচুয়েট করেছে কিনা
জানতে চেও না আর।
সকালের ওষুধটা খেতে ভুলে গেছি কিনা
জিজ্ঞেস করো না আর।
বিকেল হাঁটতে বেরিয়েছিলাম নাকি
ঘর অন্ধকার করে শুয়ে কাটিয়েছি
প্রশ্ন করো না আর।

কালের অমোঘ রন্ধ্রে নাক ডুবিয়ে
আমি কিসের যেনো ডাক শুনতে পেয়েছি
এসব পার্থিব অনুসঙ্গ তাই বড্ড অপ্রয়োজনীয় ঠেকছে আজ।
ওপারে অভিমানের সুযোগ নেই।
~
২০১৮০৮২৫/২০১৭

Featured Post

কষ্টযাপন

তাদের কষ্টবিলাস থাকে আমার কষ্ট বোধযাপন, আমার রঙের আকাশ দেখে ভাবে তারা উদযাপন। #অণুঅনুভব

জনপ্রিয়