Saturday, May 9, 2015

মা দিবসঃ ইতিহাস- ইতিবৃত্ত



মা দিবস ( Mother's Day) হল একটি সম্মান প্রদর্শন জনক অনুষ্ঠান যা মায়ের সন্মানে এবং মাতৃত্ব, মাতৃক ঋণপত্র, এবং সমাজে মায়েদের প্রভাবের জন্য উদযাপন করা হয়। এটি বিশ্বের অনেক অঞ্চলে বিভিন্ন দিনে, সাধারণত মার্চ, এপ্রিল বা মে উদযাপন করা হয়।
বিশ্বের সর্বত্র মায়ের এবং মাতৃত্বের অনুষ্ঠান উদযাপন করতে দেখা যায়। এ গুলোর অনেকই প্রাচীন উৎসবের সামান্য প্রামাণিক সাক্ষ্য, যেমন, সিবেল গ্রিক ধর্মানুষ্ঠান, হিলারিয়ার রোমান উত্সব যা গ্রিকের সিবেল থেকে আসে, অথবা সিবেল এবং হিলারিয়া থেকে আসা খ্রিস্টান মাদারিং সানডে অনুষ্ঠান উদযাপন। কিন্তু, আধুনিক ছুটির দিন হল একটি আমেরিকান উদ্ভাবন যা সরাসরি সেই সব অনুষ্ঠান থেকে আসেনি। তা সত্ত্বেও, কিছু দেশসমূহে মা দিবস সেই সব পুরোনো ঐতিহ্যের সমার্থক হয়ে গেছে।
ছুটির দিনটি ক্রমে এত বেশি বাণিজ্যিক হয়ে পড়ে যে এটির স্রষ্টা আনা জার্ভিস এটিকে একটি "হলমার্ক হলিডে" অর্থাৎ যে দিনটির বাণিজ্যিক প্রয়োজনীয়তা অভিভূত করার মতো, সেই রকম একটি দিন হিসাবে বিবেচিত করেন। তিনি শেষে নিজেরই প্রবর্তিত ছুটির দিনটির নিজেই বিরোধিতা
ইতিহাসঃ
একটি গোষ্ঠীর মতে এই দিনটির সূত্রপাত প্রাচীন গ্রীসের মাতৃ আরাধনার প্রথা থেকে যেখানে গ্রিক দেবতাদের মধ্যে এক বিশিষ্ট দেবী সিবেল-এর উদ্দেশ্যে পালন করা হত একটি উৎসব। এশিয়া মাইনরে মহাবিষ্ণুব -এর সময়ে এবং তারপর রোমে আইডিস অফ মার্চ (১৫ই মার্চ) থেকে ১৮ই মার্চের মধ্যে এই উৎসবটি পালিত হত।
প্রাচীন রোমানদের ম্যাত্রোনালিয়া নামে দেবী জুনোর প্রতি উৎসর্গিত আরো একটি ছুটির দিন ছিল, যদিও সেদিন মায়েদের উপহার দেওয়া হত।
মাদারিং সানডের মতো ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যে দীর্ঘকাল ধরে বহু আচারানুষ্ঠান ছিল যেখানে মায়েদের এবং মাতৃত্বকে সম্মান জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট রবিবারকে আলাদা করে রাখা হত। মাদারিং সানডের অনুষ্ঠান খ্রিস্টানদের অ্যাংগ্লিকানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পঞ্জিকার অঙ্গ। ক্যাথলিক পঞ্জিকা অনুযায়ী এটিকে বলা হয় লেতারে সানডে যা লেন্টের সময়ে চতুর্থ রবিবারে পালন করা হয় ভার্জিন মেরি বা কুমারী মাতার ও "প্রধান গির্জার" সম্মানে। প্রথানুযায়ী দিনটিকে সূচিত করা হত প্রতিকী উপহার দেওয়া এবং কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রান্না আর ধোয়া-পোছার মত মেয়েদের কাজগুলো বাড়ির অন্য কেউ করার মাধ্যমে।
জুলিয়া ওয়ার্ড হোই রচিত "মাদার্স ডে প্রক্লামেশন" বা "মা দিবসের ঘোষণাপত্র" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবস পালনের গোড়ার দিকের প্রচেষ্টাগুলির মধ্যে অন্যতম। আমেরিকান গৃহযুদ্ধ ও ফ্রাঙ্কো-প্রুশীয় যুদ্ধের নৃশংসতার বিরুদ্ধে ১৮৭০ সালে রচিত হোই-এর মা দিবসের ঘোষণাপত্রটি ছিল একটি শান্তিকামী প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক স্তরে সমাজকে গঠন করার ক্ষেত্রে নারীর একটি দায়িত্ব আছে, হোই-এর এই নারীবাদী বিশ্বাস ঘোষণাপত্রটির মধ্যে নিহিত ছিল।

 ঘোষণাঃ 

১৯১২ সালে আনা জার্ভিস স্থাপন করেন মাদার'স ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোশিয়েশন্ (আন্তর্জাতিক মা দিবস সমিতি) এবং "মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার" আর "মা দিবস" এইসব শব্দবন্ধের বহুল প্রচার করেন।
মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে "মা দিবস" হিসাবে উদযাপনের ঘোষণা দেয়া হয় ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেসে। আর তখন থেকেই এই দিনে সারা বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মা দিবস। বিশ্বের প্রায় ৪৬টি দেশে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয় হয়। কথিত আছে, ব্রিটেনেই প্রথম শুরু হয় মা দিবস পালনের রেওয়াজ, কেননা সেখানে প্রতিবছর মে মাসের চতুর্থ রোববারকে মাদারিং সানডে হিসাবে পালন করা হতো। তবে সতের শতকে মা দিবস উদযাপনের সূত্রপাত ঘটান মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্টস। মায়ের সঙ্গে সময় দেয়া আর মায়ের জন্য উপহার কেনা ছিল তাঁর দিনটির কর্মসূচিতে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে প্রথম মা দিবস পালন করা হয় ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২ জুন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উহলসন সর্বপ্রথম মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করেন। মা দিবসের উপহার সাদা কার্নেশন ফুল খুব জনপ্রিয়। আর বাণিজ্যিকভাবে, "মা দিবস" বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কার্ড আদান-প্রদানকারী দিবস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে "মা দিবস"-এ অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি ফোন করা হয়।

আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও আচারানুষ্ঠান

বেশিরভাগ দেশেই মা দিবস হল একটি সাম্প্রতিক রীতি, যা উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ছুটির দিনটির রীতি অনুসারে চলে এসেছে। যখন অনান্য বহু দেশ ও সংস্কৃতি এটিকে গ্রহণ করে তখন এই দিনটিকে একটি অন্য মাত্রা দেওয়া হয়, বিভিন্ন পর্বের (ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা পৌরানিক) সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, এবং একটি একদমই অন্য দিন বা বিভিন্ন দিনে এটিকে পালন করা হয়।
কিছু কিছু দেশে বহু আগে থেকেই মাতৃত্বের প্রতি উত্সর্গিত কয়েকটি অনুষ্ঠান ছিল এবং সেইসব অনুষ্ঠানে মার্কিন মা দিবসের মত মায়েদের কার্নেশন (গোলাপী ফুল) এবং আরো অন্য উপহার দেওয়া হত।
অনুষ্ঠান পালনের রীতিটি অনেক রকম। অনেক দেশে মা দিবস পালন না করলে এটিকে প্রায় একটি অপরাধ গণ্য করা হয়। অনেক দেশে আবার মা দিবস একটি স্বল্প-পরিচিত উত্সব যা মূলত প্রবাসী মানুষেরা পালন করে থাকে বা বিদেশী সংস্কৃতি হিসাবে মিডিয়া সম্প্রচার করে থাকে।

বিভিন্ন ধর্মে মাঃ

ইসলাম ধর্মে ‍মা-

আল কুরআনে বলা হয়েছে আমি মানুষকে তাদের পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না। আমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আমি তোমাদেরকে বলে দেব যা কিছু তোমরা করতে।  একটি হাদীসে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, মাতার পদতলে সন্তানের বেহেশত (স্বর্গ)।

হিন্দু ধর্মে ‍মা-

সনাতন ধর্মে উল্লেখ আছে স্ববংশবৃদ্ধিকামঃ পুত্রমেকমাসাদ্য..”। আবার সন্তান লাভের পর নারী তাঁর রমণীমূর্তি পরিত্যাগ করে মহীয়সী মাতৃরূপে সংসারের অধ্যক্ষতা করবেন। তাই মনু সন্তান প্রসবিনী মাকে গৃহলক্ষ্মী সম্মানে অভিহিত করেছেন। তিনি মাতৃ গৌরবের কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন এভাবে- উপাধ্যায়ান্ দশাচার্য্য আচায্যাণাং শতং পিতা। সহস্রন্তু পিতৃন্মাতা গৌরবেণাতিরিচ্যতে” [ (মনু,২/১৪৫) অর্থাৎ “দশজন উপাধ্যায় (ব্রাহ্মণ) অপেক্ষা একজন আচার্য্যরে গৌরব অধিক, একশত আচার্য্যরে গৌরব অপেক্ষা পিতার গৌরব অধিকতর; সর্বোপরি, সহস্য পিতা অপেক্ষা মাতা সম্মানার্হ।”
ক্যাথলিক ধর্মে, দিনটি বিশেষভাবে ভার্জিন মেরি বা কুমারী মাতার পূজায় সমর্পিত।

বিভিন্ন দেশে মা দিবসঃ

আফ্রিকীয় দেশসমূহঃ

বহু আফ্রিকীয় দেশ ব্রিটিশ প্রথানুযায়ী মা দিবস পালন করে, যদিও আফ্রিকার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মধ্যে মায়েদের সম্মানে এমন অনেক অনুষ্ঠান এবং উত্সব আছে যা আফ্রিকায় ইউরোপীয় উপনিবেশ গড়ে ওঠার বহু যুগ আগে থেকেই চলে আসছে।

বলিভিয়াঃ

বলিভিয়ায় ২৭শে মে মা দিবস পালিত হয়। অধুনা কোচাবাম্বা শহরে ১৮১২ সালের ২৭শে মে সংঘটিত করনিলার যুদ্ধের স্মৃতিস্মারক হিসবে এই দিনটিকে মা দিবসরূপে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয় ৮ই নভেম্বর, ১৯২৭ সালে। এই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত অনেক মহিলাকে স্পেনীয় সৈন্যবাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে।

চীনঃ

চীনের মা দিবস ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, কার্নেশন সেখানে জনপ্রিয়তম উপহার এবং সবথেকে বেশি বিক্রিত ফুল। ১৯৯৭ সালে দরিদ্র মায়েদের সাহায্য করার জন্য, বিশেষ করে পশ্চিম চীনের গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মায়েদের কথা মানুষকে মনে করানোর জন্য, এই দিনটিকে চালু করা হয়। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র, পিপিল'স ডেইলি'র একটি নিবন্ধে ব্যাপারটির বিষয়ে লেখা হয় যে "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হলেও, চীনের মানুষ বিনা দ্বিধায় এই দিনটিকে গ্রহণ করেছে কারণ এটি একদমই এই দেশের রীতি মাফিক - মানে গুরুজনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা"।

গ্রিসঃ

গ্রীসে, যিশু কে মন্দিরে পেশ করার ইস্টার্ন অর্থডক্স ফিস্ট ডের সঙ্গেই পালন করা হয় মা দিবস। যেহেতু থিওটকস ( ঈশ্বরের মাতা) যিনি এই ফিস্টের (ভোজ) বিশিষ্ট চরিত্র এবং তিনিই যিশু কে জেরুসালেমের মন্দিরে এনেছিলেন, তাই জন্য এই পরবটি মায়েদের সঙ্গে সংযুক্ত।

ইরানঃ

২০ জুমাদা আল-থানি, মহম্মদ (সঃ) -এর কন্যা ফাতিমা(রাঃ)র জন্মবার্ষিকীর দিন ইরানে পালন করা হয় মা দিবস।

জাপানঃ

প্রাথমিক ভাবে শোয়া যুগ -এ রানী কজুন -এর (রাজা আকিহিতো'র মা) জন্মদিনটিকেই মা দিবস হিসাবে পালন করা হত জাপান। এখন এটি একটি জনপ্রিয় দিন। বিশেষত কার্নেশন আর গোলাপ উপহার হিসবে দেওয়া হয় এই দিন।

নেপালঃ

বৈশাখ(এপ্রিল) মাসে হয় "মাতা তীর্থে অনুসি " বা "একপক্ষব্যাপী মাতৃ তীর্থ যাত্রা"। এই উত্সবটি পালিত হয় অমাবস্যার সময় যার জন্য এটির নাম "মাতা তীর্থে অনুসি "। "মাতা" মানে মা, "তীর্থ" মানে তীর্থযাত্রা। উত্সবটিতে মৃত মায়েদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং জীবিত মায়েদের উপহার দেওয়া ও সম্মান জানানো হয়। কাঠমান্ডু উপত্যকার পূর্বদিকে অবস্থিত মাতা তীর্থে যাওয়া এই উত্সবের একটি অঙ্গ।
এই তীর্থযাত্রাটি ঘিরে একটি কিংবদন্তি আছে। প্রাচীন কালে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মা দেবকী ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। তিনি বহু জায়গা ঘুরে বাড়ি ফিরতে ভীষণ দেরী করেন.ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মায়ের অবর্তমানে খুবিই দুঃখিত হয়ে ওঠেন। উনি তখন মা কে খুঁজতে বেরিয়ে অনেক জায়গায় খোঁজেন কিন্তু খুঁজে পান না। শেষে যখন তিনি "মাতা তীর্থ কুন্ড"- তে পৌঁছন তখন তিনি মা কে দেখতে পান পুকুরে স্নানরত। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আনন্দিত হয়ে ওঠেন মা কে খুঁজে পেয়ে এবং মা কে তিনি মায়ের অবর্তমানকালীন সব দুঃখের কথা বলেন। মা দেবকী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কে বলেন "আহা! তাহলে এই স্থানটিকে আজ থেকে প্রত্যেক সন্তানের তাদের ছেড়ে আসা মায়েদের সঙ্গে মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠুক"। সেই থেকে এই জায়গাটি মৃত মায়ের সঙ্গে সাক্ষাত প্রাপ্তির এক দ্রষ্টব্য ও পবিত্র তীর্থস্থান হয়ে উঠেছে। এও কিংবদন্তি আছে যে এক পুন্যার্থী পুকুরের জলে নিজের মায়ের প্রতিকৃতি দেখে প্রায় জলে পরে মারাই যাছিলেন। এখনও সেখনে পুকুর ধারটিতে লোহার বেঁড়া দেওয়া আছে। পুজার্চনার পরে পুন্যার্থীরা সেখনে নৃত্য, গানের মাধ্যমে নিজেদের মনোরঞ্জন করে। কিংবদন্তিগুলোর সত্যতা যাচাই করে দেখার অবকাশ নেই যেহেতু এগুলো প্রাচীন পুঁথির অনুযায়ী লোকমুখে চলে আসা সব ঘটনা সব।

থাইল্যান্ডঃ

থাইল্যান্ডে মা দিবস পালিত হয় থাইল্যান্ডের রানীর জন্মদিনে।

রোমানিয়াঃ

রোমানিয়া-তে দুধরনের আলাদা ছুটির দিন আছে: মা দিবস আর মহিলা দিবস।

ইউনাইটেড কিংডম এবং আয়ারল্যান্ডঃ
ইউনাইটেড কিংডম ও আয়ারল্যান্ড-এ , ইস্টের সানডে(২৭শে মার্চ, ২০০৯)-র ঠিক তিন সপ্তাহ আগে, লেন্ট-এর চতুর্থ রবিবার মাদারিং সানডে পালিত হয়.খুব সম্ভবত ষোড়শ শতকের বছরে একবার নিজের মাদার চার্চ বা প্রধান গির্জায় যাওয়ার খ্রিস্টীয় রেওয়াজ থেকেই এর উত্পত্তি. এর মূল তাত্পর্য হল যে মায়েরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে মিলিত হবেন.অনেক ঐতিহাসিক -এর মতে যুবতী শিক্ষানবিশ-দের এবং অন্য যুবতীদের তাদের মালিকরা কাজ থেকে অব্যহতি দিত তাদের পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য। ধর্মনিরিপেক্ষিকরণের ফলে এখন এই দিনটি মূলত মায়ের প্রতি সম্মান জানানোর দিন যদিও বহু গির্জা এটিকে এখনও সেই ঐত্তিহাসিক ভাবে দেখতেই পছন্দ করে যেখানে থাকে যিশু খ্রিস্ট -এর মা মেরি ও "মাদার চার্চ"-এর মত ঐতিহ্যবাহী রীতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
মাদারিং সানডে সর্বাগ্রে পড়তে পারে ১লা মার্চ(যে বছরগুলিতে ইস্টের পরে ২২শে মার্চ) ও তারপর পড়তে পারে ৪ঠা এপ্রিল(যখন ইস্টের ২৫শে এপ্রিল পরে)।

ভিয়েতনামঃ

ভিয়েতনামে মা দিবসকে বলা হয় লে ভূ-লান এবং চান্দ্র পঞ্জিকা অনুযায়ী সপ্তম মাসের পঞ্চদশ (পনেরো) দিনে এটি পালিত হয়। যাদের মায়েরা জীবিত তারা ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা জানায় আর যাদের মায়েরা পরলোক গমন করেছেন তারা প্রার্থনা করে মৃত মায়েদের আত্মার শান্তি কামনা করে।

 মা দিবসের বাণিজ্যিকিকরণঃ

সরকারী মা দিবস পালনের ন' বছরের মাথায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দিনটি এতটাই বাণিজ্যিক হয়ে পরে যে আনা জার্ভিস নিজেই এই তাত্পর্য পাল্টে যাওয়া দিনটির ঘোর বিরোধী হয়ে যান এবং নিজের সমস্ত সম্পত্তি ও জীবন দিনটির এইরকম অবমাননার প্রতিবাদে ব্যয় করেন।
মা দিবসের বানিজ্যিকরণ  ও দিনটিকে বানিজ্যিক স্বার্থে কাজে লাগানোর প্রতিবাদে আনা তার সময়ে বহু সমালোচনা করেন। তিনি সমালোচনা করেন হাতে লেখা চিঠি না দিয়ে কার্ড কেনার নতুন প্রথাকে যেটিকে তিনি আলসেমি হিসাবে গন্য করতেন। ১৯৪৮ সালে আনাকে গ্রেপ্তার করা হয় মা দিবসের বানিজ্যিকরণের প্রতিবাদ করা কালীন এবং অবশেষে বলেন যে তিনি "ভাবেন যে এই দিনটির সূচনা না করলেই ভালো হত কারণ এটি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনের বাইরে...
মা দিবস এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বানিজ্যিকভাবে সবথেকে সফলতম পরব. ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোশিয়েশনের মতে রেস্টুরেন্টে ডিনার করার অন্যতম জনপ্রিয় দিন হল মা দিবস।
--
সূত্রঃ বাংলা উইকপিডিয়া
পাদটীকাঃ এটা উইকিপিডিয়ার পেজ থেকে সংকলিত একটি পোস্ট মাত্র।







Thursday, May 7, 2015

লিমেরিকঃ টকশো মাত্রাজ্ঞান

টক-শোয়ে যে সুশীল করছেন হাতাহাতি
রাতদুপুরে কথার প্যাঁচে মাতামাতি
আমজনতা দেখেই হাসে
এভাবেই কি বুদ্ধি নাশে!
মাত্রাজ্ঞান কি ভুললো তবে রাতারাতি!




Tuesday, May 5, 2015

নই নকল বা ডামি

ভালোবাসা তোমার তরে
ইতি তোমার আমি
ভাবি তোমায় সবার থেকে
অনেক বেশি দামি।

আমার আমি সহজ অতি
শুভ্র শান্তিকামী,
গুগল সার্চে পাবে না হায়
নই সেরকম নামী।

অনেক চিঠি লিখি তোমায়
জেগে গভীর যামি
ইমেল ভাইবার নেইতো আমার
খুঁজি ডাকের খামই।

আমার হৃদ্য ভালোবাসা
সব তোমাতে গামী
এই যে আমি নিরেট জেনো
নই নকল বা ডামি ।
--
সো আ প
ঢাকা
০৫ মে ১৫

Monday, May 4, 2015

ভুল জলধি মোহনা// THE SHORE MISTAKEN

নিজস্ব কোনো নদী ছিলো না আমার কখনো

সুবর্ণগাঁয়ের জলধিপাড় ধরে
বিফল সূর্যাস্তে অন্তলীন আমার অনেক উর্বশী-বিকেল
আমি পাইনি জলের ছোঁয়া
সফেদ জলের মিঠে আদর
আপ্রাণ পরম কাঙ্ক্ষিত ডুবসাঁতার গেছে রয়ে বৃত্তের বাইরে
জল জল হাহাকার করে খররোদে হৃদয় কাঠ
অ্যাম্ফিত্রিতি সাক্ষী- মিথ্যে এ নয় একচুল।


কালান্তরে ক্রমাগত ছুটে চলা আমি
যাইনি হারিয়ে ঊষর মনভূমে
জলধি মোহনায় আজ আমি বিজয়ের শিল্পিত ভোরে
আঁজলা ভরে ঠোঁট ছোঁয়াই অমৃতোপম জলে
আজন্ম তৃষিত পান করি মুহূর্তে পুরোটা

ভেতরটা জ্বলে যায় নির্দয়
বেদম দগ্ধ হৃদয় আমার
নিঃশব্দ হাহাকারে অঙ্গার হয়
ভুল জলধি মোহনায় ভেঙ্গে পড়ি আমি।

 ত্রস্ত ফিরে চলি আমি
পেছনে জ্বলজ জলধির বহ্নি দীর্ঘশ্বাস!

--
ঢাকা
০৬/৩/১৫


==

THE SHORE MISTAKEN 
==================

I had no river of my own ever
Passed my numerous celestial evening in vain 
At ruthless run on the brim of ocean of the golden suburb 
Failed to get a mere touch of water 
Adore of sweet and sublime aqua...

My boundless desire for dive deep in the water
Aqua-caress 
Remain out of the border-mark of the reach-circle.

"Water, Water"- immense wailing 
Heart turns dry cracked piece of  wood
Amphredite witnessed
No clue of fabrication.

In the midst of time-space, 
My breathless run does not decay
I do never lost my amour in waste-mind
I am today- this golden dawn
Standing at the brink of long-desired ocean,
Take water handful, sip the ambrosial ahh
Drank the full - as ad vitam thirsty me.

Ah it inflames  inside 
Burns my entire heart
Tacit lamentation turns heart a cinder
My heart breaks down at the wrong shore.

Feared I rush back
Keeping behind the sigh of flaming mistaken ocean.  



Sunday, May 3, 2015

খাদ্যে ভেজাল; ভেজাল ঔষধেওঃ চিন্তার সুস্থতা কতদূর?

কিছু খবর আমাদের বিচলিত করে। করে উদ্বিগ্ন। কিছু বাস্তবতা আমাদের জন্য কষ্টের হয়ে দেখা দেয়। আঁধার হয়ে নেমে আসে কারো কারো জীবনে। দুটি খবরে চোখ আটকে গেলো। নতুন কোনো খবর নয়। তবু মনটা বিচলিত হয়ে আছে। উদ্বেগও কাজ করছে। খবর দুটি এমনঃ 
(১) খাদ্যে ভেজাল বাড়ছেই ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য;
(২) ভেজাল ওষুধে সয়লাব বাজার দেশজুড়ে সীমাহীন নৈরাজ্য।
(বাংলাদেশ প্রতিদিন; ০৩ মে ২০১৫) 
প্রথম খবরে প্রকাশঃ উৎপাদন বাড়লেও দেশে নিরাপদ খাদ্যের সংকট রয়েই গেছে। এ ক্ষেত্রে ভয়াবহ এক আতঙ্কের নাম ভেজাল খাদ্য, যা বড় ধরনের হুমকিতে ফেলেছে জনস্বাস্থ্য। আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ খাদ্য বিষক্রিয়ায় বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরিপ বলছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি ১৯ শিশুর একজন মারা যায় খাদ্যে উচ্চমাত্রার ভেজালের কারণে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের জনস্বাস্থ্য ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের বাজারে থাকা ৭৬ শতাংশ খাবারেই ভেজাল। আবার এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভেজাল শিশুখাদ্যে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ২১ হাজার ৮৬০টি খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে ৫০ শতাংশেই ভেজাল পেয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, ভেজাল খাদ্য গ্রহণে ক্যান্সার ছাড়াও কিডনি, ফুসফুস, লিভার, স্নায়ু সমস্যা, পাকস্থলীর সংক্রমণ, গর্ভজাত সন্তানের প্রতিবন্ধকতা, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানির মতো রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। 
দেশের বাজারে প্রাপ্ত খাদ্যে ভেজাল আছে – এটা আমাদের জানা। কোনো খাদ্য কিনেই কেউ নিশ্চিত হতে পারবেন না যে, এটা ভেজালমুক্ত। কিন্তু এই ভেজাল খাদ্য এবং এর গ্রহণ-পরবর্তী  প্রতিক্রিয়ার পরিসংখ্যান দেখে আঁতকে ওঠতে হয়। 
প্রতিদিনের খাদ্য- যেমনঃ  মসলা, শিশুখাদ্য, ফল, শাকসবজি, মাংস, দুধ, মিষ্টি, প্যাকেটজাত খাবার, পানীয় সবকিছুতেই ব্যবহৃত হচ্ছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। ভাবতে অকাকই লাগে – শুধু আপেল, কমলা, আম নয়- তরমুজ ও ডাবের মতো ফলেও ভেজাল মেশানো হচ্ছে। এমনকি রমযান মাসেও ইফতারিতে ভেজাল দিতে কুন্ঠাবোধ করে না আজ মানুষ।  বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভেজাল খেয়ে ক্যান্সার, হেপাটাইটিস, কিডনি ও লিভারের রোগ হবার আশঙ্কা থাকে। আর বিকলাঙ্গতা, গর্ভবতীদের গর্ভস্রাবের ঝুঁকি বৃদ্ধি, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা, নারীর স্তন ক্যান্সার ও পুরুষের প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আমাদের জীবনযাত্রার ধরন এমন যে, ইচ্ছে করলেই সবাই এসব ভেজাল পরিত্যাগ করে থাকতে পারে না। অসংখ্য মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের মানুষজনকে বাধ্য হয়েই গ্রহণ করতে হয় এসব ভেজালযুক্ত খাবার। 
ভেজাল খেয়ে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। ডাক্তারের সেবা নেয়ার ক্ষমতা অনেকেরই নেই। ধুকেধুকে শেষ হয় জীবন। আর  যারা ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ গ্রহণ করার সুযোগ পান, তারা কি নিশ্চিত – ঠিক ঔষধটি পাচ্ছেন? না।  
“ভেজাল ঔষধে সয়লাব বাজার দেশজুড়ে সীমাহীন নৈরাজ্য” – এ খবরটি তাই সাধারণ মানুষের জন্য বড় আতঙ্কের। অনেক ডাক্তার এসব ভেজালের সাথে জড়িত। ঔষধের মান নিয়ে এবং মানহীন ও মেয়াদহীন ঔষধের প্রতিক্রিয়া মানুষের জীবনে যে প্রভাব ফেলছে – তা নিঃসন্দেহে কষ্টকর, অনভিপ্রেত আর লজ্জার। 

খাদ্যে ভেজাল; এ ভেজাল খেয়ে অসুখে ভোগা
ঔষধে ভেজাল; নষ্ট চিকিৎসায় আরো রোগা
রক্তেও নাকি দিচ্ছে ভেজাল!
আমার দেশের হলো কী হাল!!
আসল ভেজাল চিন্তায় রয়; আল্লাহ সুমতি যোগা।

খাদ্যে আর ঔষধে ভেজালের এই চিত্র দেখে একটাই বিষয় প্রধান হয়ে আসছে- মানুষের মানবিকবোধের অধঃপতন হচ্ছে। যেকোনো ভাবেই জিততে হবে, ব্যবসা-সফল হতে হবে, লাভের মুখ দেখতে হবে – এই হলো সারকথা। লোভ-লালসা আর স্বার্থ-চিন্তা সবকিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। সত্যিকার অর্থে ভেজাল খাদ্যে বা ঔষধে নয়; আসল ভেজাল হলো মানুষের মনে ও মগজে। আসল ভেজাল চিন্তা ও চেতনায়। 
ভেজালের এই ভয়ঙ্কর অবস্থা দেখে জাতি হিসেবেও লজ্জার ভার নিতে হয় আমাদের। তাই সব ছাড়িয়ে  চিন্তার সুস্থতা আগে প্রয়োজন। ব্যক্তিগত এই গুণ অর্জনের জন্য পারিবারিক পরিবেশ থেকে শুরু করে সামাজিক দায়বদ্ধতা আর সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় আইন, নীতি ও অনুশাসনের সুস্থ ও সুষ্ঠু প্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে এ গূঢ় সঙ্কট থেকেও উত্তরণ সম্ভব। আশাবাদী হয়ে বাঁচতে চাই।
=
সোআপ
ঢাকা
০৩ মে ২০১৫






বিশ্ব মুক্ত-গণমাধ্যম দিবসঃ প্রত্যাশা



বিশ্ব মুক্ত-গণমাধ্যম দিবস আজ। ১৯৯১ সালে ইউনিস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ মোতাবেক জাতিসংঘ ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতি বছর ৩ মে এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।   বেশ কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সারাবিশ্বে এ দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। যেমনঃ মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা,  সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও বিশ্বব্যাপি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন করা,  গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবন দানকারী সাংবাদিকদের স্মরণ করা  ইত্যাদি। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘লেট জার্নালিজম থ্রাইভ’ অর্থাৎ ‘সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ হতে দাও’।

যে কোনো দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তোলে ধরতে এবং সত্যকে সামনে আনতে সে দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম সমাজের আয়নার মতো। তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে গণমাধ্যমের ব্যাপকতা বেড়েছে অনেক। মূল সংবাদপ্ত্র বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি এখন অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ব্লগ, এমন কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও (ফেসবুক/টুইটার প্রভৃতি) এখন সংবাদ, ঘটনা ইত্যাদি প্রকাশে তাৎক্ষনিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আমাদের গণমাধ্যম কতোটা মুক্ত- সে প্রশ্ন অনেক প্রশ্নেরই উদ্রেক করবে হয়তো। অনেক সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, ব্লগারকে নির্যাতিত; এমন কি হত্যার শিকার হতেও দেখা গেছে। আবার অনেক গণমাধ্যম কর্মীর অনিরপেক্ষ ভূমিকার  কথাও উল্লেখযোগ্য। 
তাই, একইসঙ্গে নিরপেক্ষভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও দেশের গণমাধ্যমকে নিরাপদে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
 

Featured Post

কষ্টযাপন

তাদের কষ্টবিলাস থাকে আমার কষ্ট বোধযাপন, আমার রঙের আকাশ দেখে ভাবে তারা উদযাপন। #অণুঅনুভব

জনপ্রিয়