Wednesday, April 15, 2015

আমার সবখানে আছো তুমি

আমার সবখানে আছো তুমি
থাকো তুমি সতত
শুভ্রভোরে ঘুমভাঙ্গা আড়ষ্টতা হয়ে তুমি থাকো
দিনের কর্পোরেট-ব্যস্ততায় ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকো তুমি নিজস্ব অনুভবে

বাদামি কফি-বিকেলের একমুঠো মোলায়েম রোদ্দুর হয়ে থাকো তুমি ছুঁয়ে
সাঁঝবেলায় নীড়ে ফেরা মৌটুসির ডানা হয়ে  দৃষ্টির প্রান্তিক ছন্দে
রাতের নিস্তব্ধতায় তুমি থাকো-
প্রিয় কবিতার মুগ্ধ উপমা হয়ে
সদ্যপড়া গল্পের হৃদয়-নাড়ানো প্রিয়দর্শিনী হয়ে
আর আমার ঘুমে তুমি-
শান্ত নির্ভার দিঘি - আমার ইচ্ছে ডুবসাঁতার 
কোথায় নেই তুমি? জানি না আমি।
 - 
সোআপ
১৫/৪/১৫

Tuesday, April 14, 2015

লতিফাঃ আজ নববর্ষ


নয় বিষাদ ক্লেদ দুঃখ; থাকুক প্রাণে-মনে হর্ষ,
বৈশাখের প্রথম দিন আজ; আজ শুভ নববর্ষ।
পুরাতন জরা সব নাশে,
নবরূপে বৈশাখ আসে
ধরে তোলে উচ্চে শুভ বাঙালি আদর্শ 
সব-জীবনে সুখ  আনে শতরূপে উৎকর্ষ।

Monday, April 13, 2015

শুভ নববর্ষ ১৪২২

সময় চলে। চলে। ঘন্টা। দিন। মাস। বছর। সতত আবর্তনশীল সময়।  সময় সবসময় একই রকম থাকে না। কখনো মধুর।  কখনো অম্ল। আবার কখনো অম্ল-মধুর। সময় তার এই পথচলায় আমাদেরকে সঙ্গী করে নেয়। সময় পাল্টায়ও। সেই প্রাগৈতিহাসিক থেকে আধুনিক বা উত্তরাধুনিক। সময় ইতিহাস হয়ে থেকে যায়  তার ধরন-ধারণের মধ্যে। তবে সময়ের সবচেয়ে বড় যে গুণ, তা হলো সময় অনেক কিছু ভুলিয়ে দেয়। এর বিপরীত ব্যাখ্যাও থাকতে পারে। কিন্তু Time is the best healer - এটা মন থেকে মেনে নিয়েই সময়ের হাতে আমরা অনেক কিছু সঁপে দিয়ে নিশ্চিত বা নিশ্চিন্ত থাকতে পারি। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সময়ের এই পরিভ্রমণে আরো একটি বছর চলে গেলো। ১৪২১ বঙ্গাব্দ। আমাদের নাগরিক জীবনে ইংরেজি বর্ষের প্রভাবই বেশি। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের অফিস-আদালতে ও জীবনযাত্রায় ইংরেজি সাল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবু বাঙালি জীবনে, বাংলাদেশিদের জীবনে ও চলনে বাংলা বছরের  গুরুত্ব কম নয় মোটেও। কৃষিপ্রধান আমাদের এই দেশে এখনো কৃষকগণ বাংলা সাল হিসেবে নিয়ে, পঞ্জিকা দেখে তাঁদের কাজকর্ম করে থাকেন। বাংলা সালকে ধর্তব্যে নিয়ে রচিত খনার বচন এখনো অনেক জনপ্রিয় ও নির্দেশনামূলক বাঙালি জীবনে। 

বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয়ে তাই বাংলা নববর্ষ বাঙালি জীবনে আসে উদ্যম আর নতুন চেতনার উৎস হয়ে। বৈশাখ তাই বাঙালির চেতনার অংশ। বাংলা নববর্ষকে ঘিরে আয়োজিত হয় হালখাতার। বাংলা সালের প্রথম দিনে দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া  হলো হাল্ছখাতা। বছরের প্রথম দিনে ব্যবসায়ীরা তাদের দেনা-পাওনার হিসাব সমন্বয় করে এদিন হিসাবের নতুন খাতা খুলেন। এজন্য খদ্দেরদের বিনীতভাবে পাওনা শোধ করার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এ উপলক্ষ্যে নববর্ষের দিন ব্যবসায়ীরা তাদের খদ্দেরদের মিস্টিমুখ করান। খদ্দেররাও তাদের সামর্থ অনুযায়ী পুরোনো দেনা শোধ করে দেন। আগেকার দিনে ব্যবসায়ীরা একটি মাত্র মোটা খাতায় তাদের যাবতীয় হিসাব লিখে রাখতেন। এই  খাতাটি বৈশাখের প্রথম দিনে নতুন করে হালনাগাদ করা হতো। হিসাবের খাতা হাল নাগাদ করা থেকে "হালখাতা"-র উদ্ভব। 

"পুরনো হিসেব আপডেট করে নিতে হালখাতা
মিস্টি দিয়ে মৈত্রীর বন্ধন; নয় কোনো ঝালকথা।
বাংলার ঐতিহ্যটা প্রীতির
বাণিজ্যে বসতি নীতির
হালখাতা সম্প্রীতি ছড়াক; মেলে দিয়ে ডালপাতা।"

বাংলা নববর্ষ বরণে চলে না না বাঙালি আয়োজনের ডালি। নতুন বছরের উৎসবের সঙ্গে  রয়েছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিবিড় যোগাযোগ। গ্রামে মানুষ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে, নতুন জামাকাপড় পরে এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বাড়িঘর পরিষ্কার করা হয় এবং  সুন্দর করে সাজানো হয়। বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও থাকে। কয়েকটি গ্রামের মিলিত এলাকায়, কোন খোলা মাঠে আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলার। মেলাতে থাকে নানা রকম কুটির শিল্পজাত সামগ্রীর বিপণন, থাকে নানারকম পিঠা পুলির আয়োজন। অনেক স্থানে ইলিশ মাছ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। এই দিনের একটি পুরনো সংস্কৃতি হলো গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন। এর মধ্যে থাকে নৌকাবাইচ, লাঠি খেলা কিংবা কুস্তির। 

অধুনা, বাংলা নববর্ষ ঘিরে ব্যবসা বাণিজ্যও গড়ে ওঠেছে অনেক। দেখা যায় অনেক নতুন আচার ও আয়োজনের যা ঠিক বাঙালি সংকৃতির সাথে যায় না। কারো কারো মাঝে একধরনের "পান্তা-ইলিশ খেতেই হবে" টাইপের ভ্রান্ত বিলাসিতাও কাজ করে। 

বর্ষবরণে তাই সচেতনতা  প্রয়োজন। অপসংস্কৃতি যাতে আমাদের গ্রাস করতে না পারে- সেই সচেতনতা। আশেপাশের কেউ যাতে আনন্দ বঞ্চিত না হয়- সেই সচেতনতা। 

"নয় বিষাদ ক্লেদ দুঃখ; থাকুক প্রাণে-মনে হর্ষ,
বৈশাখের প্রথম দিন আজ; আজ শুভ নববর্ষ।
পুরাতন জরা সব নাশে,
নবরূপে বৈশাখ আসে
সব-জীবনে সুখ  আনে শতরূপে উৎকর্ষ।"

বাংলা নতুন বছর ১৪২২ সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ আর স্বাচ্ছন্দ্য। 

শুভ নববর্ষ । 
========
সোআপ
১৩/০৪/১৫
(চৈত্রের শেষ দিন)
-
সহায়কসূত্রঃ উইকিপিডিয়া 



Sunday, April 12, 2015

লতিফা: চালকবিহীন ট্রেন


চালক ছাড়াই চলতে পারে ট্রেন
ট্রেন ইঞ্জিনের আছে ভালো ব্রেন
কিন্তু কেনো পিছে?
নয়তো মিছেমিছে...
সামনে আঁধার কিংবা ছিলো ড্রেন
ভাগ্য ভালো  বেঁচে গেলো ক্রেন!!
...
পাদটীকা: আজ চালক ছাড়াই এক ট্রেন চলেছে ২৭ কিমি। পিছনের দিকে।

লিমেরিক: চালকবিহীন ট্রেন


চালক ছাড়াই চলতে পারে ট্রেন
ট্রেন ইঞ্জিনের আছে ভালো ব্রেন
কিন্তু কেনো পিছে?
নয়তো মিছেমিছে...
সামনে আঁধার কিংবা ছিলো ড্রেন !!
...
পাদটীকা: আজ চালক ছাড়াই এক ট্রেন চলেছে ২৭ কিমি। পিছনের দিকে।

Friday, April 10, 2015

সৃজনশীলচর্চায় অনলাইন মিডিয়া

~এক~
লেখালেখি মানুষের মজ্জাগত একটা বিষয়। এটা ভেতর থেকে আসে। আমরা মনের টানে লিখে থাকি। মনের ভালোলাগা বা মন্দলাগাটুকু আমাদের লেখায় ওঠে আসে। ওঠে আসে কষ্টবোধ বা সুখবোধ। তাই জোর করে লেখালেখি করা প্রায় অসম্ভব। তাই লেখালেখির এই প্রয়াস- একে বলা হয় সৃজনশীল কাজ। সৃজনশীল কাজে স্বভাবিকভাবেই থাকে - স্বতন্ত্র চিন্তা, বোধ ও চেতনার হৃদ্য প্রকাশ। জোর করে সৃজনশীল এই কাজ করা সম্ভব না হলেও, অনুশীলন ও শেখার আগ্রহ ভালো লেখক হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।  তাছাড়া, পাঠকের পাঠ-প্রতিক্রিয়া এবং লেখক-পাঠক মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে লেখার মান উন্নত করা সম্ভব। আগেকার দিনে, পাঠকের প্রতিক্রিয়া এবং লেখক-পাঠক মিথস্ক্রিয়ার বিষয়টি সাধারণত আড্ডা/আলোচনা আর চিঠিপত্রের মাধ্যমে হয়ে থাকতো।

~দুই~
তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারলাভ করায় লেখালেখির মেজাজ ও মাধ্যমেও এসেছে (আসছে) অনেক পরিবর্তন। আগে নতুন কবি-লেখকগণের জন্য লেখা প্রকাশের মাধ্যম ছিলো খুব সীমিত। দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যপাতা, হাতেগোনা সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিলো লেখা প্রকাশের মূল মাধ্যম। ঈদ-পার্বণের বিশেষ সংখ্যাগুলোও বড় লক্ষ্য থাকতো অনেক লেখা প্রকাশের জন্য। এর বাইরে বিভিন্ন বিশেষ দিবসে স্মরণিকা বা ম্যাগাজিন বেরুতো তখন। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস বা একুশে ফেব্রুয়ারিতে এসব ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো নতুন ও পুরনোদের লেখা নিয়ে।  সপ্তাহের সাহিত্যপাতা কিংবা ম্যাগাজিন প্রকাশের জন্য কবি-লেখকদের অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করতে হতো।

~তিন~
প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই দিনে অনেককিছুর সাথে পরিবর্তন ও নতুন সংযোজন এসেছে- লেখালেখি ও লেখা প্রকাশেও। আগে লেখালেখির ড্রাফট বা প্রাথমিক হতো কাগজে কলমে। আরএখন তা হচ্ছে ফিঙ্গারটিপে- কীবোর্ডে। লেখালেখির জন্য এখন প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি এসেছে বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সাহিত্য-আশ্রয়ী ওয়েবসাইট/ব্লগ এবং ফেসবুক এদের মধ্যে অন্যতম। ফেসবুকে ইদানিং অনেক গ্রুপ আছে যারা সৃজনশীল লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রত্যয়দীপ্ত।  লেখালেখির জন্য অনলাইন সুবিধাসমূহ  অত্যন্ত সুন্দর মাধ্যম- যেখানে পাঠকের পর্যবেক্ষণমূলক প্রতক্রিয়া, লেখক-পাঠক মতবিনিময় এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে লেখার উৎকর্ষ সাধন করার যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে।  লেখালেখি/ মতপ্রকাশের অনলাইন এই মাধ্যমকে তাই ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই।

~চার~
স্বীকার্য যে, পত্রিকায় আর অনলাইন মাধ্যমে লেখার মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। পত্রিকা বা প্রিন্ট মিডিয়ায় লেখা প্রকাশের আগে সম্পাদকের হাতে তা পরিমার্জিত হয়ে যায়। কিন্তু অনলাইন মিডিয়ায়, মানে ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন আর ব্লগে  সেই ফিল্টারটা নেই। তাই অনেক কাঁচা ও অপরিপক্ক লেখা এখানে প্রকাশ হবার সুযোগ থেকে যায়। তবে অনলাইনে লেখালেখির কিছু ভালো দিকও আছে যা এখানে উল্লেখ করাটা প্রাসঙ্গিকভাবেই জরুরি। তাহলো - মত প্রকাশের স্বাধীনতা।  ব্লগ বা অনলাইন মিডিয়াতে, যে কেউ তার লেখাটি প্রকাশ করতে পারেন। আর সেই লেখায় -অন্যলেখক বা যেকোনো পাঠক মন্তব্য করতে পারেন। লেখক-পাঠকদের মধ্যে যারা অপেক্ষাকৃত ভালো জানেন, তাঁদের গঠনমূলক মন্তব্য/সমালোচনা লেখার মান উন্নত করতে পারে সহজেই। লেখার ভুলগুলো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মার্জিতভাবে (কখনোই অন্যের অনুভুতিতে আঘাত দিয়ে নয় ) ধরিয়ে দেবার  মধ্য দিয়েই সম্ভব অনলাইন লেখালেখির সুফলটা পাওয়া যেতে পারে।

~পাঁচ~
প্রযুক্তির কল্যাণে সৃজনশীল-চর্চার এই সুযোগকে সুস্থভাবে কাজে লাগানো উচিত। গঠনমূলক মন্তব্য/আলোচনা/ সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে যেমন দেখতে হবে; তেমনি কারো সেন্টিমেন্টে আঘাত দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকতে হবে,   ভিন্ন ভিন্ন মত নিতে না না মতবাদের ধারক-বাহক হয়ে অনেক গ্রুপ ও ব্লগের অস্তিত্ব দেখা যায়। সেসব গ্রুপ, ব্লগ বা ওয়েবসাইট বাদ দিয়ে, শুধু সাহিত্য- ঘেঁষা মিডিয়ার কথা মাথায় রেখে বলা যায়- সৃজনশীলতার চর্চায় এই অনলাইন মিডিয়ার কার্যক্রমকে সুন্দর মানসিকতা নিয়ে মননশীল অবদানের মধ্যদিয়ে পারস্পারিক উৎকর্ষ সাধনে সবার এগিয়ে আসা উচিত।
--- ---
সো আ প
১৮ মার্চ ২০১৫ 
 

Thursday, April 9, 2015

লতিফাঃ কবে হবে ইতি

সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ
মরছে ম্যালা নিতি
দুদিন কেবল সরগরম রয়
তা'পরে সব স্মৃতি ।
ভাবনা কাঁদায়, এরূপ দুঃখের
কবে হবে ইতি। 
=
সো আ প
(০৯/০৪/১৫)
পাদটীকাঃ দুদিন আগে এক পরিবারের ৫ জন আর আজ এক দুর্ঘটনায় ২৪ মারা গেছেন। 

Featured Post

কষ্টযাপন

তাদের কষ্টবিলাস থাকে আমার কষ্ট বোধযাপন, আমার রঙের আকাশ দেখে ভাবে তারা উদযাপন। #অণুঅনুভব

জনপ্রিয়